Saturday, March 3, 2018

হাবিব জাকারিয়া উল্লাস


আবেগে বন্ধুর বইয়ের বিজ্ঞাপন করি...কারণ...অকারণ জানা নাই৷ মেয়ে দেখেছিল এক চাচ্চু একটা বড় গল্প বলবে বলে রাজশাহী এসেছিলো৷ তারপর একটা বইয়ে গল্পটা বলে ফেললো৷ কি অদ্ভুত কান্ড....

নির্ঝর ঢাকা

মাহবুব মোর্শেদ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত কিন্তু উপন্যাস লেখক হিসেবে আমার কাছে একেবারেই নতুন । আশা করছি আমার খারাপ লাগবে না ।
মাহবুব ভাই উৎসর্গ টা ভালো লাগছে - স্বর্গের উজ্জল নদী ।

আবু মুস্তাফিজ হাসান

লোকমুখে শুনেছি বইটা অনেক সুখময় পাঠ্য, ভিতরে নানাবিধ তৈযজপত্রও আছে। ফলে আপনিও একটি কিনুন, আমি তো কিনবই।
ফেসবুক 

নতুন ছন্দে পুরনো মাহবুব : ইলিয়াস কমল

বইমেলা শুরু হয়ে গেলে প্রথমত যেটা হয়, ধুমধাম পছন্দের বই কেনা হয়। তারপর ধীরে ধীরে পড়া হয় সারা বছর। এছাড়া কোনো বই নিয়ে একটু বেশি আগ্রহ বা ভালোবাসা থাকলে একই সাথে আরো দশটা বই কেনা হলেও পড়া হয়ে যায় ফেব্রুয়ারিতেই। তবে এমন বই সাধারণত প্রতি বছর মেলার সময় খুব কম থাকে। এক-দুই থেকে তিনটার বেশি হয় না। আর তাই সারা বছর ধীরে ধীরে পড়ার জন্য সময় পাওয়া যায়। তো মেলা চলাকালীন বই পড়ে ফেলার মতো আগ্রহী বই এবার একাধিক আসছে। তার মধ্যে মাহবুব মোর্শেদের দ্বিতীয় উপন্যাস (এমনিতে তৃতীয়, কিন্তু দ্বিতীয় উপন্যাস হিসেবে যেটা ছিলো ‘অর্ধেক জাগ্রত রেখে’-কে লেখক নিজে নভেলা বলেন বলে) ‘তোমারে চিনি না আমি’।
আগে থেকেই জানতাম প্রথম সপ্তাহেই আসবে। প্রথম দুই দিন মেলায় গেলেও বই কেনা হয়নি। তৃতীয় দিন গিয়ে বই কিনতে গিয়ে দেখি পকেটে টাকা নাই। সাথে আরো এক বন্ধু থাকায় তার কাছ থেকে ধার নিয়ে বই কেনা হলো। ভাবছিলাম বাসে বসে কিছুটা পড়ে ফেলবো। কিন্তু সে সুযোগ না পাওয়ায় রাতে বাসায় গিয়ে পড়া শুরু হলো। ওই রাতে শেষ হয়নি। শেষ হলো ৩ তারিখ রাতে। এর আগে সাথে যে বন্ধু এই বই কিনেছে, সে ফোন দিলো রাত ৮টা বা সাড়ে ৮টার দিকে। জিজ্ঞাসা করলো বই শেষ করে ফেলেছি কিনা। বললাম, প্রায় শেষ। আজ রাতে শেষ হয়ে যাবে। বললো, তাকে চটি লিখার বুদ্ধি কে দিয়েছে?
আমি রীতিমতো ধাক্কা খেলাম। মানে? এটা চটি কেন? তখন তাকে একটু ফ্ল্যাশব্যাক-এ যেতে বললাম। জিজ্ঞাসা করলাম তার লেখা আগে পড়েছিস? তার লেখা সম্পর্কে কোনো আইডিয়া থাকলে তো তুই এমন মন্তব্য করতি না? তখন সে জানালো লেখকের প্রথম গল্পসংকলনটি ‘ব্যক্তিগত বসন্তদিন’ পড়ছিলো। বললাম ওই বই ঠিকমতো পড়লেও এমন মন্তব্য করার কথা না। যাই হোক, আমি তার সাথে আর তর্কে যাই নি। বলেছি, বই শেষ করি তারপর মন্তব্য।

তিন তারিখ রাতে বই শেষ করার পর আমার ‘ব্যক্তিগত বসন্তদিন’ এর মাহবুব মোর্শেদকেই মনে পড়ছে। ওই গল্প সংকলনের যে গল্প পড়ে আমি মাহবুবের গল্প/গদ্যের ভক্ত হই, সেটার নাম ‘জিসম’। হিন্দি সিনেমার নামে ওই নাম থাকায় সেসময় গল্পটি সমালোচিত হয়েছিলো। আরো সমালোচিত ও আলোচিত হয়েছিলো গল্পের মধ্যে তীব্র যৌনতার প্রসঙ্গ। এখান থেকেই যে মাহবুব আলাদা হয়ে উঠছেন এটা তার সচেতন পাঠকরা খেয়াল করছেন কিনা জানি না, আমি খেয়াল করছি এই গল্পকার এই দিকেই যেতে চাচ্ছেন। পরবর্তীতে তার একটি গল্পগ্রন্থও   প্রকাশিত হয়েছিলো ‘দেহ’ শিরোনামে। ওই গল্পগুলোর যোগসূত্রও ছিলো শরীর ও যৌনতা। বাংলাদেশের মত সেমি-আধুনিক ও সেমি-ধার্মিক মধ্যবিত্তের জীবনের যৌনতার গল্প। একই রকম চিত্রও মাহবুবের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘তোমারে চিনি না আমি’-তে।
হ্যা, গল্পে যৌনতা থাকায় অনেকে বিরক্ত হতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই উপন্যাস কিন্তু যৌনতার না। এই উপন্যাস ভয়াবহ রকম রাজনৈতিক ও সামাজিক। পাঠককে কেবল সেই সমাজটা মাহবুবের চোখ দিয়ে দেখতে হবে। তার নির্মিত চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখতে হবে। এই দেখতে পারলেই আপনি মাহবুবকে অন্তরঙ্গভাবে চিনতে পারবেন। না হলে সে আপনার বিরক্তির কারণও হতে পারে। যেমন ভারতের এক সময়কার জনপ্রিয় লেখক খুশবন্ত সিং এর বই পড়ে কেউ আনন্দিত হয়, কেউ হয় বিব্রত ও বিরক্ত। আমি অবশ্য আনন্দের ভাগিদারই হই। তাই আমার কাছে মাহবুব মোর্শেদের বই মানেই আমার কাছে সমাজের আরো একটি নতুন রূপ। আরো একটি নতুন অভিজ্ঞতা।
চ্যানেল আই অনলাইন

শেরিফ আল সায়ার

মাহবুব মোর্শেদের ‘তোমারে চিনি না আমি’ উপন্যাস পড়া শেষ। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রানা। এই চরিত্রের বর্ণনায় পাঠক তাকে লম্পট, যৌন আকাঙ্ক্ষায় বিকারগ্রস্ত হিসেবেই আবিষ্কার করবে। প্রশ্ন আসতে পারে রানা কেন প্রধান চরিত্র? লম্পট চরিত্রহীন কিভাবে নায়ক হয়ে ওঠে উপন্যাসের? এমন প্রশ্নে ঘুরপাক খেতেই পারে পাঠক।
উপন্যাস কোনও নির্দিষ্ট গল্প ধরে এগোয় না। এমনকি পাঠক যখন উপন্যাস পড়া শুরু করবে তখন দেখা যাবে সব কিছু যেন দ্রুত ঘটে যাচ্ছে। পরিবার বিচ্ছিন্ন নি:সঙ্গ রানার দ্রুত বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, সংসার ধর্মে চলে যাচ্ছে। তার পরিবারের সঙ্গে যেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল সেই দূরত্বও ঘুচে যাচ্ছে। তাহলে লেখক কোন দিকে চলবেন রানাকে নিয়ে?
পরে ধীরে ধীরে দেখা যাবে রানার যৌনতাকেই যেন প্রাধান্য দিচ্ছেন লেখক। একে একে হাজির হবে নারী চরিত্রগুলো। নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে- নুরুন্নাহার, লুৎফুন্নাহার, পপি, রোজ, মিথিলা। সবার প্রতিই তার যে আকাঙ্ক্ষা, প্রেম খোঁজার যে তীব্র বাসনা সেখানে যৌনতাই যেন বড় ভূমিকা রাখে। মাহবুব মোর্শেদের এই উপন্যাস আমাকে মনে করিয়ে দেয় সৈয়দ শামসুল হকের ‘খেলারাম খেলে যা’ উপন্যাসকে।
যাইহোক, এই উপন্যাসে আছে কবিতার সঙ্গে বোঝাপড়া। আছে এক লম্পট যুবক কবিতাকে ভালোবেসে হঠাৎ করে কিভাবে জড়িয়ে পড়ে রাজনীতিতে। সেখানেও সে ব্যর্থ হয়। এমনই দিকভ্রান্ত এক যুবকের কথনে তৈরি হয়েছে ‘তোমারে চিনি না আমি’।
প্রধান চরিত্র রানা একা হয়েও একা চলতে যেন পারে না। তার এগিয়ে যাওয়ায় ক্রমাগত প্রয়োজন পড়ে অন্যের কু-পরামর্শের। কেউ তাকে ব্যবহার করে, কখনও সে কাউকে ব্যবহার করে। হয়তো বা রানা সেচ্ছায় তাদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। যেমন, কামরুজ্জামান, দীপক, সরদার ক্রমাগত রানাকে ধাবিত করেছে এক বিচ্ছিন্ন জগতে। সবাইকে আপন মনে হয় রানার। কিন্তু আদতে কেউই কারও আপন নয়, সময়ের বাস্তবতায় সেটাই প্রমাণিত হয়। যদিও সবশেষ গুরু সরদার তাকে ঠিক কোন দিশা দিতে চেয়েছিল এ এক অস্পষ্ট বয়ান হিসেবেই উপন্যাসে থেকে যাবে।
স্মৃতির ভেতর ঢুকে চরিত্রটি যখন তাকে আবিষ্কারের চেষ্টা করতে থাকে– তখন বোঝা মুশকিল কোথায় যাবে রানা? কিংবা সে কোথায় যেতে চায়, কিংবা লেখক মাহবুব মোর্শেদ রানাকে কিভাবে হাজির করতে চায়? এমন প্রশ্ন থেকেই যাবে পাঠকের মনে।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় মন্দ দিক হলো, একটি পজিটিভ চরিত্র হাজির হয়নি। যদিও রানার স্ত্রী নাজনীনকে কিছুটা মন্দ কথার বাইরে রেখেছেন লেখক। কিন্তু এই চরিত্রটি প্রকাশিত হয়নি।
‘তোমারে চিনি না আমি’ উপন্যাস। মাহবুব মোর্শেদের প্রথম উপন্যাস ‘ফেস বাই ফেস’। বলতে হয়, প্রথম উপন্যাসের মাহবুব মোর্শেদ এখানে অন্যরকম। ‘ফেস বাই ফেস’ পড়ে রোমাঞ্চিত হয়েছিল পাঠক কিন্তু উল্টোটাই হবে 'তোমারে চিনি না আমি' উপন্যাসে।
ফেসবুক লিঙ্ক 

সাদাত হোসাইন


মেলায় যাওয়ার কথা ছিল না, তারপরও কুড়ি পঁচিশ মিনিটের জন্য গিয়েছিলাম, প্রিয় কিছু লেখকের বই কেনার জন্য। মাহবুব মোর্শেদ ভাইয়া, সেই প্রিয়'র তালিকায় উপরের দিকেই আছেন। তার বই কিনতে গিয়ে কথা হলো Shakhawat Tipu ভাইয়ার সাথে। মাত্র কয়েক মিনিটের বাক্যবিনিময়। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে, এ এক দীর্ঘ গল্পের শুরু! ওইটুকু সময় নানাকারণেই মন ভালো করে দেয়ার। তবে সবচেয়ে বেশি মন ভালো হয়ে গেলো Mahbub Morshed ভাইয়া অটোগ্রাফে যা লিখে দিয়েছেন, সেই কথা ক'টি পড়ে! ভালোবাসা। আমরা পরস্পরের ছায়ায় হেঁটে যাবো দহনের মরুপথ, স্বপ্নের সীমানায়।

মাহাদী হাসান সুমন


তোমারে চিনি না আমি। মাহবুব মোর্শেদ এর নতুন উপন্যাস পড়া শেষ হলো গতরাত্রে। অনেকক্ষণ ঝিম মেরে বসে ছিলাম।

আমার বন্ধুকে মনে পড়ছিল। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা। শিল্পী বলতে যে দু'চার জনকে কাছ থেকে চিনি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম। রাজনীতির চেয়ে শিল্পই তাঁকে বেশি ভাবায়। এ প্রেম থেকে সে প্রেমে অস্থির ভ্রমরের মতো খুঁজে ফেরেন নিজেকে। কিন্তু জানি, বাঁধা পড়েছেন এই স্থবির সময়ের আবর্তে। মাঝে মাঝে খুব খুঁচিয়ে প্রশ্ন করি তাঁকে, 'যে অমিত সম্ভাবনা আপনি নিজের ভেতরে অনুভব করেন, আর কিছুদিনের মধ্যেই যদি প্রমাণিত হয়ে যায়, আপনি আসলে আর পাঁচজনের মতোই সাধারণ হয়ে গেছেন, কেমন লাগবে আপনার?'

উত্তর ফিরে আসে অসহায় হাসি হয়ে। যে জানে উত্তর, তার নাম কি সময়? এই সমকাল? না প্রেমিক না বিপ্লবী হয়ে থাকে যে জীবন, সে জীবনই কি আমার ? আমাদের? কিন্তু সেই অধ্যাবসায় কই? সমাজ পরিবর্তনের সেই সাহস কই?

ভাবনাটা নিজের দিকেও আসে। শাহাবাগে দাঁড়ানো আমি, ফেসবুকের সরব আমি, কৃষি ভূমির আমি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমি, পরিবারের আমি, গভীর রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেটে অন্যমনস্ক টান দিতে থাকা আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, এই আমিই কি সেই আমি, যে শুধু কবিতাই লিখতে চেয়েছিল? ক্রমশ সে কোথায় হারিয়ে গেছে? কোন সময়ের অতল গর্ভে?

গতরাত্রে ভাবছিলাম, যদি রাস্তাতে এই উপন্যাসের চরিত্রটার সাথে দেখা হয়ে যায় কখনও আর সে যদি প্রশ্ন করে বসে, 'তুমি কি সুখী?' কি জবাব দিতে পারি এর।

কোন সমকালীন উপন্যাস খুব কাছাকাছি সময়ে নিজের ভেতরে এতো ভাবনা সৃষ্টি করতে পেরেছে, এমনটা আর হয়নি। এতো আদরের লেখা, এতো সুচিন্তিত শব্দ প্রয়োগ, এতো সাবলীলতা, যেন প্রকৃতি।

সময়টা ধরা পড়লো কারও কলমে, মানুষগুলো ধরা থাকলো লেখায়। ফাল্গুনের হাওয়া এক গভীর আশাবাদের মতো স্বস্তি সৃষ্টি করে গেল।

ফেসবুক